২৮ ফেব্রুয়ারি ৭টি গ্রহের বিরল মহাজাগতিক মিলন

কল্পনা করুন এক রাত, যখন আকাশের গভীর নীলিমায় একসঙ্গে সাতটি গ্রহ সারি বাঁধা মণিমুক্তার মতো ঝলমল করছে। হ্যাঁ, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সেই বিরল রাতের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। একে বিজ্ঞানীরা বলেন প্ল্যানেটারি প্যারেড বা গ্রহের কুচকাওয়াজ।



আপনারা কি জানেন, আমাদের সৌরজগতের আটটি গ্রহই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তবে তাদের গতি একে অপরের থেকে ভিন্ন? সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধ ৮৮ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। আর সবচেয়ে দূরের গ্রহ নেপচুন? তার এক বছর পেতে লাগে আমাদের ১৬৫ বছর!



এই ভিন্ন গতির কারণেই মাঝে মাঝে গ্রহগুলো এমন এক রেখায় এসে দাঁড়ায় যে পৃথিবী থেকে সেগুলো একসঙ্গে দেখা যায়। এবারের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। ফেব্রুয়ারির রাতের আকাশে শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন—এই ছয়টি গ্রহের সঙ্গে এক রাতে দেখা যাবে বুধকেও।

কিন্তু এমন একটি ঘটনা শুধু দেখার জন্য? এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রভাব কি পৃথিবী বা সৌরজগতের ওপর পড়ে? গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায়। ২০১৯ সালে একটি তত্ত্বে বলা হয়েছিল, সব গ্রহ এক রেখায় এলে সৌর কার্যকলাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, আমাদের সূর্যে সাইক্লোনের মতো কার্যকলাপ হতে পারে, যা পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

জার্মানির এক পদার্থবিদের মতে, শুক্র, পৃথিবী এবং বৃহস্পতির সম্মিলিত জোয়ার-ভাটার শক্তি সূর্যে বিশেষ ধরনের তরঙ্গ তৈরি করতে পারে, যা আবহাওয়ার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। আবার অন্য গবেষকরা বলছেন, এই ধারণার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

তাহলে কি গ্রহগুলোর এই কুচকাওয়াজ শুধুই আমাদের চোখের জন্য এক মহাজাগতিক প্রদর্শনী? এই উত্তরের অপেক্ষায় আমরা।



এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে ভুলবেন না। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে এই চমৎকার দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। আপনাদের কী মনে হয়, এই ঘটনা পৃথিবী বা সৌরজগতের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

আর এমন আকর্ষণীয় আর তথ্যপূর্ণ ভিডিও পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন। 

No comments

Theme images by Jason Morrow. Powered by Blogger.