পৃথিবীর সবথেকে ঠান্ডা জায়গা: ফাইবেরিয়া!

 পৃথিবীর সবথেকে ঠান্ডা জায়গা: ফাইবেরিয়া! 

 



“আপনার কল্পনায় কি এমন কোনো জায়গা আছে যেখানে শ্বাস নেওয়া মানেই বিপদ?

যেখানে গাড়ি চালালে টায়ার জমে বরফ হয়ে যায়?

আর যেখানে মানুষ নয়, বরফই প্রকৃত অধিবাসী?”


আজকে জানব পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গা — ফাইবেরিয়া সম্পর্কে!

এই জায়গাটি এতটাই ঠান্ডা যে, এখানে পানির বদলে বাতাস জমে বরফ হয়ে যেতে চায়!




ফাইবেরিয়া কোথায়?

ফাইবেরিয়া, রাশিয়ার সাইবেরিয়ার একটি অংশ। প্রায় সমগ্র উত্তর এশিয়া নিয়ে গঠিত একটি বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক শীতপ্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া। সপ্তদশ শতাব্দী থেকে এটি রাশিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর উত্তরে উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণে কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও চীন সীমান্ত। সাইবেরিয়ার ক্ষেত্রফল প্রায় এক কোটি ৩১ লাখ বর্গকিলোমিটার এবং এটি সমগ্র রাশিয়ার ৭৭ শতাংশ ধারণ করে।

বিশ্বের সবচেয়ে ঠান্ডা বসতযোগ্য অঞ্চল বলা হয় ওইমিয়াকন (Oymyakon) নামক একটি ছোট্ট গ্রামকে।

এই গ্রামটি ফাইবেরিয়ার ইয়াকুটিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।

১৯৩৩ সালে এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল -৬৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস!

অর্থাৎ মাইনাস ৬৭.৭! শুধু ভাবুন, এমন ঠান্ডায় আপনার নিঃশ্বাসও বরফে পরিণত হতে পারে।

এই ঠান্ডায় মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকে?
এই এলাকায় দিন-রাতের ব্যবধানও অদ্ভুত।
শীতকালে দিনের আলো মাত্র ৩–৪ ঘণ্টা থাকে।
মানুষজন কাঠ ও কয়লা জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখে।
বাইরে বের হলে মুখ ঢেকে রাখতে হয়, না হলে ঠোঁট জমে ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসতে পারে।

এখানে তো ফ্রিজের দরকারই পড়ে না। খাবার এমনিতেই জমে যায়।
মাছ ধরার জন্য নদী কাটতে হয় বরফ ভেঙে।
আর স্কুল বন্ধ হয় -৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে!


এখানকার জীবজগৎ কেমন?
এই এলাকায় এখনও দেখা মেলে Yakutian horses, যারা -৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকে!
বরফের রাজ্যে একটুকু উষ্ণতার প্রতীক এই প্রাণীগুলো।

তুষারের মধ্যে হেঁটে বেড়ায় কিছু সাহসী সাইবেরিয়ান হাসকি কুকুর,
যারা বরফঝড়েও পথ দেখায় মানুষকে।


ভাবুন তো, আপনি যদি একদিন এই ঠান্ডার রাজ্যে ঘুরতে যান, প্রথম কী করবেন?
আপনার কি ইচ্ছে হয় এমন একটা জায়গা ঘুরে দেখার, যেখানে ঘড়ির কাঁটা যেন জমে যায়?

পৃথিবী বিস্ময়ে ভরা। ফাইবেরিয়ার মতো কিছু জায়গা আমাদের দেখায়, প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা ক্ষুদ্র…

No comments

Theme images by Jason Morrow. Powered by Blogger.