ইসলামে নারী ও পুরুষের পর্দার বিধান
ইসলামে পর্দা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। এটি পুরুষ ও নারীর উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য, এবং মূলত লজ্জাশীলতা, শালীনতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই বিধান দেওয়া হয়েছে।
পুরুষের পর্দার বিধান
ইসলামে পুরুষদের জন্য পর্দার মূলনীতি হলো নিজের দৃষ্টি সংযত রাখা এবং লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।
১. দৃষ্টি অবনত রাখা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
অর্থ: "মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য আরও পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ সম্যক অবগত।"
📖 (সূরা আন-নূর: ৩০)
২. পোশাক ও পর্দার সীমারেখা
- পুরুষদের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ঢেকে রাখা ফরজ।
- এমন পোশাক পরা নিষেধ যা স্বচ্ছ বা শরীরের আকৃতি প্রকাশ করে।
- অহংকারমূলক বা অনুচিত পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকতে হবে।
নারীদের পর্দার বিধান
নারীদের জন্য পর্দার বিধান আরও কঠোর এবং বিস্তারিত। কারণ নারীদের সৌন্দর্য আকর্ষণীয় এবং এটি ফিতনার কারণ হতে পারে।
১. দৃষ্টি সংযত রাখা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
অর্থ: "এবং মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত হয় তা ছাড়া।"
📖 (সূরা আন-নূর: ৩১)
২. শরীর ঢেকে রাখা ও জিনাত প্রকাশ না করা
আল্লাহ আরও বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ
অর্থ: "হে নবী! আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের উপর বড় চাদর (জিলবাব) টেনে দেয়। এটি তাদেরকে চেনার পক্ষে উত্তম, ফলে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হবে না।"
📖 (সূরা আল-আহযাব: ৫৯)
৩. নারীদের পর্দার ধরন
- নারী সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখবে, শুধুমাত্র চোখ বা নির্দিষ্ট প্রয়োজনে হাত ও চেহারা খোলা রাখা যেতে পারে (কোনো আলেমের মতে)।
- সুগন্ধি ব্যবহার করে বের হওয়া নিষিদ্ধ।
- শরীর আকর্ষণীয়ভাবে মোড়ানো পোশাক পরা নিষিদ্ধ।
- পুরুষদের অনুরূপ পোশাক পরা হারাম।
হাদিস থেকে পর্দার বিধান
১. পর্দার গুরুত্ব
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"নারী গোপনীয় বস্তু। যখন সে বাইরে বের হয়, শয়তান তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।"
📖 (তিরমিজি: ১১৭৩)
২. নারীদের সৌন্দর্য গোপন রাখা
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন:
"দুই শ্রেণির মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী, যাদের আমি এখনো দেখিনি… এক শ্রেণি হল সেই নারী, যারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ থাকবে।"
📖 (সহিহ মুসলিম: ২১২৮)
৩. অপরিচিত পুরুষদের সামনে পর্দা
আয়েশা (রা.) বলেন:
"যখন আয়াত নাজিল হলো, তখন নবী (সা.)-এর স্ত্রীগণ পর্দার আড়ালে চলে গেলেন।"
📖 (বুখারি: ৪৭৯৫)
পর্দার উদ্দেশ্য ও উপকারিতা
১. নৈতিকতা ও শালীনতা রক্ষা করা
২. সমাজে অশ্লীলতা ও ফিতনা প্রতিরোধ করা
৩. নারীদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা
৪. পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ক সংহত রাখা
ইসলামে পর্দা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক একটি বিধান। কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুসলিম পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখা, শালীন পোশাক পরা এবং নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। অন্যদিকে নারীদের সম্পূর্ণ শরীর আবৃত রাখা, অপরিচিত পুরুষদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ না করা এবং পর্দার বিধান মেনে চলা ফরজ।
যারা এই বিধান মেনে চলে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারে।
اللهم اجعلنا من الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه
(হে আল্লাহ! আমাদেরকে সে সকল ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা উত্তম কথা শোনে এবং তার অনুসরণ করে) আমিন!

.jpg)

.jpg)

No comments